Posts

Showing posts from May, 2020

ডি লা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক ( গল্পের দ্বিতীয় কিস্তি)

Image
আজ আমি আবার শোনাব নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা সমগ্র’ থেকে টেনিদার আরো ১১টি গল্প। আমি আপনাদের কাছে আবার ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কারণ সত্যিই ব্লগ দিতে বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে।    দেরি হলে সত্যিই ধৈর্য আর থাকে না।   আর যারা আমার ব্লগ-এ নতুন, তাঁদের জন্য বলি,   এই গল্পগুলোর কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ গল্প টেনিদার স্বকপোলকল্পিত, আর কিছু গল্প হল ঘটনার বিবরণ। আর টেনিদার বলা গল্পগুলো বেশির ভাগ তৈরি হয়েছে চারমূর্তির আদত ঠেক-এ, অর্থাৎ চাটুজ্যেদের রকে। আর বাকি গল্পের জন্ম অন্যান্য জায়গায় । কোনো কোনো গল্পে কিন্তু হাবুলের মুখে ঢাকাই ভাষা নয়, খাঁটি চলিত ভাষাই রয়েছে।   আর কিছু কিছু গল্প টেনিদা বলেছে কেবল প্যালাকে আর অন্যান্য গল্পগুলো তিনজনকে একসাথেই বলেছে । আর হ্যাঁ , টেনিদার পেট থেকে গল্প বের করতে গেলে , ডালমুট , তেলেভাজা অর্থাৎ কিছু খাদ্যদ্রব্য ভেট দিতে হয় বইকি । আরেকটা কথা বলে দিই যেটা আগের ব্লগে বলি নি, সেটা হল প্রায় প্রতিটা গল্পেই টেনিদার কোনো না কোনো মামার উদাহরণ চলেই আসে। অনেক কথা বললাম। আর দেরি না করে শুরুই করে দিচ্ছি। ১) তত্ত্বাবধান মানে-জীবে প্রেম-...

ডি লা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক

Image
প্রথমেই ব্লগ দিতে দেরি করার জন্য ক্ষমা চাইছি। আজ আমি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা সমগ্র’ থেকে টেনিদা সংক্রান্ত গল্পগুলোর কথা বলব । টেনিদা সমগ্রতে মোট ৩৩   টি গল্প আছে , সেই গল্পগুলিকেই আমি একফ্রেমে ধরারই চেষ্টা করব । কারণ , টেনিদার গল্প তো , এক এক দিন একেকটা করে বলতে গেলে ৩৩ রজনী পরেও শেষ হবে না , তার রেশ এমনই দীর্ঘস্থায়ী । তাই আমি তিন কিস্তিতে গল্পগুলো বলব। এই গল্পগুলোর কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ গল্প টেনিদার স্বকপোলকল্পিত, আর কিছু গল্প হল ঘটনার বিবরণ। আর টেনিদার বলা গল্পগুলো বেশির ভাগ তৈরি হয়েছে চারমূর্তির আদত ঠেক-এ, অর্থাৎ চাটুজ্যেদের রকে। আর বাকি গল্পের জন্ম অন্যান্য জায়গায় । কোনো কোনো গল্পে কিন্তু হাবুলের মুখে ঢাকাই ভাষা নয়, খাঁটি চলিত ভাষাই রয়েছে।   আর কিছু কিছু গল্প টেনিদা বলেছে কেবল প্যালাকে আর অন্যান্য গল্পগুলো তিনজনকে একসাথেই বলেছে । আর হ্যাঁ, টেনিদার পেট থেকে গল্প বের করতে গেলে, ডালমুট, তেলেভাজা অর্থাৎ কিছু খাদ্যদ্রব্য ভেট দিতে হয় বইকি। অনেক গৌরচন্দ্রিকা হয়ে গেল , এবার আসল কথায় আসি । আজ প্রথম কিস্তি । ...

ডি-লা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক (পঞ্চম কিস্তি)

Image
আজ আমি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ টেনিদা সমগ্র ’ থেকে যে উপন্যাসটির কথা বলব , সেটিকে উপন্যাস না বলে বরং বড়গল্পই বলা উচিত। কারণ টেনিদা সমগ্র-তে পড়ার আগে অন্য যে বইতে আমি কাহিনিটি পড়ি, সেখানে কাহিনিটি কিন্তু গল্প হিসেবেই ছিল। কিন্তু টেনিদা সমগ্র-তে এটিকে যেহেতু উপন্যাস হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে, তাই আমিও এটিকে উপন্যাস হিসেবেই ধরছি। উপন্যাসটির নাম হল- ‘টেনিদা আর সিন্ধুঘোটক’ । না, না, নামটা পরে আবার যেন ভাববেন না যে, টেনিদার সঙ্গে সামুদ্রিক সী-হর্সের মোলাকাত হয়েছিল। সিন্ধুঘোটক হল একজন ব্যক্তির নাম। কে সেই ব্যক্তি? বলছি একটু পরে। সন্ধ্যাবেলা গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে গিয়ে টেনিদা আর প্যালা কীভাবে কিডন্যাপড হয়ে গিয়ে দুই পরিচালক ও এক অভিনেতার রেষারেষির মধ্যে পড়ে যায় , তাদেরকে ছদ্মবেশ পরিয়ে একটা নস্যির কৌটো ( আজ্ঞে হ্যাঁ , সামান্য একটি নস্যির কৌটো ) চুরি করতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় , সেটাই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ।   এই উপন্যাসে কিন্তু ক্যাবলা আর হাবুল অনুপস্থিত। কিন্তু তা বলে কুশীলবের অভাব নেই- আছেন অবলাকান্ত , ঘেঁটুদা , ফিল্মস্টার বিজয়কুমার , পরিচালক গজানন মাইতি, আর সিন্ধুঘোটক? এই স্বনামধন্য ব্যক্তিটি ...

ডি-লা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক ( চতুর্থ কিস্তি)

Image
আজকের ব্লগ লেখাটা শুরু করার আগে কয়েকটা সোজা প্রশ্ন করা যাক। দার্জিলিং জায়গাটা কেমন লাগে? টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখেছেন কখনও? আর ম্যালে গিয়ে ঘোড়ায় কয়জন চড়েছেন? আর হ্যাঁ, কাঞ্চনজঙ্ঘা কেমন লাগে?   না, না, রাগ করবেন না, আমি জেরা করছি না কিন্তু। শুধু জিজ্ঞেস করছি। আসলে দার্জিলিং আমরা প্রায় প্রত্যেকেই গেছি। টাইগার হিলের সূর্যোদয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা সবই দেখেছি। কিন্তু এবার একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করি। যত যাই দেখি, মানুষের মুখে সবুজ রঙের দাড়ি কী দেখতে পেয়েছি কখনও?   আজ্ঞে হ্যাঁ,   আজকে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা সমগ্র’ থেকে যে উপন্যাসটা নিয়ে কথা বলব, সেটির নাম ‘ঝাউবাংলোর রহস্য’। রহস্য- রোমাঞ্চ আর হাস্যরসের পারফেক্ট মিশ্রণ হিসেবে এই উপন্যাসটি অনবদ্য। চারমূর্তি   গরমের ছুটিতে দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে একেবারে বই থেকে উঠে আসা যে রহস্যের মুখোমুখি হয়, তাই নিয়েই এই উপন্যাস। এবার ওদের সঙ্গে কতগুলো ইন্টারেস্টিং চরিত্র ঘোরাফেরা করেছে এই উপন্যাসে, যেমন- সাতকড়ি সাঁতরা ওরফে পুণ্ডরীক কুণ্ডু, কদম্ব পাকড়াশি, জনৈক ঝুমুরলাল চৌবে চক্রবর্তী, জাপানি বিজ্ঞানী কাগামাছি( কী নাম!) আর কাঞ্ছা চাকর। তবে রহস্যের...

ডি-লা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক (তৃতীয় কিস্তি)

Image
আজ আমি টেনিদার যে উপন্যাসটার কথা বলব সেটা একটু স্বল্প পরিচিত। মানে অতটাও বিখ্যাত নয়। কিন্তু ভাল করে পড়লে বোঝা যায় যে, এই উপন্যাসটিও প্রসাদগুণে এমন কিছু কম নয়। উপন্যাসটি হল- ‘কম্বল নিরুদ্দেশ’। না, না, কম্বল মানে কিন্তু শীতকালের পরম বন্ধু কম্বল নয়, এটি একটি অতীব শয়তান, শাখামৃগ- অবতার, উড়নচণ্ডী ছেলের নাম (আজ্ঞে হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন) ! এসব কথা অবশ্য আমি বলছি না, ওটা প্যালা, হাবুল আর ক্যাবলা আগেই বলে দিয়েছে। প্যালা অবশ্য আর এক কাঠি উপরে গিয়ে   কম্বলের শয়তানির উপমা দিয়ে ওকে কিঞ্জল্ক, ডিণ্ডিম, এমনকি সুপসুপা সমাস ( এগুলোর অর্থ কী কে জানে!)- ও বলেছে। অবশ্য উপন্যাসে কম্বলবাবুর যে কয়টি শয়তানির কথা পাওয়া যায়, সেগুলো রীতিমতো ‘এপিক’। কুকুরের কানে লাল পিঁপড়ে ছেড়ে দেওয়া, প্রণামের ছল করে পায়ে বিছুটি পাতা ঘষে দেওয়া, গরুর পিঠে পটকা ফাটানো- এমন শয়তানি কেবল উচ্চস্তরের শয়তানেরাই করতে পারে। তো কাহিনী শুরু হয় এ হেন শয়তান- শিরোমণি কম্বলের ‘নিরুদ্দেশ’ হওয়া নিয়ে। নিরুদ্দেশ হওয়ার কারণ হল ওর কুস্তিগির মাস্টারমশাই খগেন মাশ্চটকের শাসানি। অবশ্য ও নিরুদ্দেশ হওয়াতে সবাই খুশিই হয়েছিল, কিন্তু আমাদের টেনিদার যেচেপড়ে উ...

ডিলা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক (দ্বিতীয় কিস্তি)

Image
আজ টেনিদার যে উপন্যাস তথা অভিযান কাহিনির কথা বলব, তার নাম ‘চারমূর্তির অভিযান’। আসলে এটা চারমূর্তির ডুয়ার্সের জঙ্গল অভিযান। আর সঙ্গে আছেন টেনিদার স্বনামধন্য কুট্টিমামা- গজগোবিন্দ হালদার ( কী অদ্ভুত নাম!) কথায় বলে- মামা ভাগ্নে যেখানে, আপদ নেই সেখানে। কিন্তু, কুট্টিমামা আর টেনিদার জুটিতে আপদ নিজে এসে জুটল। কী আপদ? আসলে জঙ্গল থাকলে সেখানে বাঘ থাকবে না, তাও কি হয়? আপদটির নাম হল- বাঘ।   ক্রিসমাসের ছুটিতে ডুয়ার্সের জঙ্গলে গিয়ে বাঘের সঙ্গে চারমূর্তির কেমন মোলাকাত হয়েছিল, তাই নিয়েই লেখা এই উপন্যাস। সবার আগেই যেটা ভাল লাগে সেটা হল, স্কুলে এতবছর ধরে পার্মানেন্ট হয়ে বসে থাকা টেনিদা অ্যাদ্দিনে থার্ড ডিভিশনে পাশ করে হলেও সিটি কলেজে ঢুকতে পেরেছে। এই কাহিনিও কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার আর হাসির কম্বো প্যাক। এতে মূল চরিত্র খুব বেশি নেই- চারমূর্তি আর কুট্টিমামাই প্রধান। কুট্টিমামার কথা না বললে আর কিছুই বলা হয় না। টেনিদা তার উঁচুদরের গুল দিয়ে বাকিদের কাছে কুট্টিমামার যে ‘মাসলম্যান’ ইমেজ বানিয়েছিল (ওটা গল্পগুলোর কথা আলোচনা করার সময় বলব)   আদতে গোবেচারা কুট্টিমামার   দৌলতে সেগুলোর ফানুস ফুস ...

ডি-লা গ্র‍্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক

Image
“ পটলডাঙার আমরা কজন, বিখ্যাত চার মূর্তিমান…“- মান্না দের গাওয়া এই গানটা মনে আছে? “ চারমূর্তি” সিনেমার টাইটেল সং ছিল এটা। কী বললেন? চারমূর্তি সিনেমাটা কী নিয়ে? আচ্ছা, কয়েকটা সোজা প্রশ্ন। পটলডাঙা জায়গাটার নাম শুনেছেন? সেখানকার চাটুজ্যেদের রোয়াকের কথাও নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন? তাও যদি না চিনতে পারেন তো, প্যালাকে চিনতে পারছেন? হাবুল? আর ক্যাবলাকে? এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আমি কার কথা বলতে চাইছি শেষমেশ? আজ্ঞে হ্যাঁ, আমি যার কথা বলতে চাইছি তিনি   অন্য কেউ নন,   নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্য ওয়ান অ্যাণ্ড অনলি ‘পটলডাঙার টেনিদা!!!’ চাটুজ্যেদের রোয়াকে তাঁর সভা, থুড়ি আড্ডা, আর শাগরেদবৃন্দ হল নিরীহ রোগাপটকা প্যালা, ঢাকাইয়া বাঙাল হাবুল আর পড়াকু ছেলে ক্যাবলা (নাম শুনলেই মনে হয় একদম ভ্যাবলা! কিন্তু সে যে কী, তা পড়লেই জানা যায়) টেনিদার গুণের শেষ নেই।   ক্লাস টেনে মনুমেন্ট হয়ে বসে থাকে (অবশ্য লেখক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের খবর দিয়েছেন যে- টেনিদা থার্ড ডিভিশনে হলেও পাশ করে কলেজে ঢুকতে পেরেছে ), পরের মাথায় হাত বুলিয়ে খেতে তাঁর জুড়ি নেই, দমাদ্দম চাঁটি গাঁট্টা লাগিয়ে দিতে একেবারে সিদ্ধহস্ত আ...
এটা আমার প্রথম ব্লগ, ব্লগের দুনিয়ায় আমার এই প্রথম আসা। জানি না কেমন হবে, কিন্তু সবাই পাশে থাকলে যাত্রাপথটা ভালোই হবে আশা করি।    

পরিচিতি

হ্যালো..... সবাইকে নমস্কার। আমি আলোকপর্ণা সাহা ওরফে তিন্নি। আমার ব্লগে সবাইকে স্বাগত।