ডি লা গ্র্যাণ্ডি মেফিস্টোফিলিস- ইয়াক ইয়াক
প্রথমেই ব্লগ দিতে দেরি করার জন্য ক্ষমা চাইছি। আজ আমি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা সমগ্র’ থেকে টেনিদা সংক্রান্ত গল্পগুলোর কথা বলব। টেনিদা সমগ্রতে মোট ৩৩ টি গল্প আছে, সেই গল্পগুলিকেই আমি একফ্রেমে ধরারই চেষ্টা করব। কারণ, টেনিদার গল্প তো, এক এক দিন একেকটা করে বলতে গেলে ৩৩ রজনী পরেও শেষ হবে না, তার রেশ এমনই দীর্ঘস্থায়ী। তাই আমি তিন কিস্তিতে গল্পগুলো বলব। এই গল্পগুলোর কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ গল্প টেনিদার স্বকপোলকল্পিত, আর কিছু গল্প হল ঘটনার বিবরণ। আর টেনিদার বলা গল্পগুলো বেশির ভাগ তৈরি হয়েছে চারমূর্তির আদত ঠেক-এ, অর্থাৎ চাটুজ্যেদের রকে। আর বাকি গল্পের জন্ম অন্যান্য জায়গায়। কোনো কোনো গল্পে কিন্তু হাবুলের মুখে ঢাকাই ভাষা নয়, খাঁটি চলিত ভাষাই রয়েছে। আর কিছু কিছু গল্প টেনিদা বলেছে কেবল প্যালাকে আর অন্যান্য গল্পগুলো তিনজনকে একসাথেই বলেছে। আর হ্যাঁ, টেনিদার পেট থেকে গল্প বের করতে গেলে, ডালমুট, তেলেভাজা অর্থাৎ কিছু খাদ্যদ্রব্য ভেট দিতে হয় বইকি। অনেক গৌরচন্দ্রিকা হয়ে গেল, এবার আসল কথায় আসি। আজ প্রথম কিস্তি।
১) একটি ফুটবল ম্যাচ-
পটলডাঙা
থাণ্ডার ক্লাবের উৎসাহী সদস্য এবং কোনোদিন ফুটবলে পা না ছোঁয়ানো প্যালা, তার নড়বড়ে
ক্লাবের প্লেয়ারের অভাব আর টেনিদার জোরাজুরি – এই যুগপৎ কারণে ফুটবল খেলতে নেমে যে
কাণ্ড করেছিল, সেটাই এই গল্পের বিষয়। প্রথম দিকে ভালো খেলে টিমের ভরসা বাড়িয়ে শেষে
তাড়াহুড়োয় সেমসাইড গোল করে- অর্থাৎ নিজেদের গোলেই বল ঢুকিয়ে দিয়ে প্যালার কীর্তি
এবং শেষে ক্লাবের পিটুনির হাত থেকে বাঁচতে কচুবনে আত্মগোপন করে মশার কামড় খাওয়ার
ঘটনা এককথায় দারুণ। গল্পের মধ্যে ফুটবলের ছোট ছোট ডিটেলিং, টেনিদার চাকর ভজুয়ার
ভাঙা ভাঙা হিন্দি আর ওভার কনফিডেন্স-এর কারণে নাজেহাল হওয়ার বর্ণনা দারুণ উপভোগ্য।
২) দধীচি,
পোকা ও বিশ্বকর্মা-
চারমূর্তির থিয়েটার
করার গল্প এটি। প্যালার একান্ত অনিচ্ছাতেও যখন টেনিদা তাঁকে ধরেবেঁধে
থিয়েটারের ঋষি দধীচির ভূমিকায় নামিয়ে দিল, প্যালা
তার শোধ তুলতে গরম চায়ের সঙ্গে পার্গেটিভ অর্থাৎ জোলাপ মিশিয়ে টেনিদা আর হাবুলকে কীভাবে
জব্দ করল, সেই কাহিনিই বর্ণিত হয়েছে। টেনিদা আর হাবুলে জব্দ হওয়া আর থিয়েটার পণ্ড
হওয়ার ঘটনা পড়লে সত্যিই প্যালার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়। এছাড়া বিশ্বকর্মার পার্ট
করতে গিয়ে টেনিদার ভীমের মতো লম্ফ-ঝম্প করা, পোকার উৎপাতের বর্ণনাও দারুণ। গল্পে প্যালার
ভূমিকাই বেশি। আর হ্যাঁ, হাবুলের মুখে কিন্তু বাঙাল ভাষা নেই, খাঁটি চলিত ভাষাই
রয়েছে। টেনিদা আর হাবুলকে নাজেহাল হতে দেখে ভালোই লাগে।
৩) খট্টাঙ্গ
ও পলান্ন-
এর মানে খাট আর পোলাও। এটা পুরোপুরি টেনিদা আর
প্যালার গল্প। টেনিদার সঙ্গে দায়ে পড়ে
প্যালা গেল ওর খাট কিনতে। টেনিদা ভাল খাট পেলে প্যালাকে পোলাও রান্না করে খাওয়াবে
কথা দিল। এবার কীভাবে নানা দোকান ঘুরে শেষে চিনেবাজার থেকে টেনিদা সস্তায় খাট
পছন্দ করে কিনল এবং ভাগ্যের ফেরে সেই খাটের কাঠই প্যালার জন্য পোলাও বানাতে কাজ
দিল, এটাই গল্পের মজা। দোকানদারদের সঙ্গে
টেনিদার দরদাম করা পড়লে হাসি আসতে বাধ্য।
শেয়ালদার মোড়ে দাঁড়িয়ে প্যালার কীর্তন শোনার অজুহাতটা একেবারে ‘এপিক’।
৪) মৎস্য-পুরাণ-
এটাও টেনিদা আর প্যালার
গল্প। আরো ভালো করে বললে এটা টেনিদা আর প্যালার মাছ ধরার গল্প। কিংবা আরো যদি খোলসা
করে বলি, তাহলে এটা আসলে টেনিদা আর প্যালার কাঁকড়া ধরার গল্প। এখানেও টেনিদা যথারীতি বঙ্গেশ্বরী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে প্যালার পয়সায় মিষ্টিমুখ করে আর তারপর তাকে
প্রায় হাইজ্যাক করে নিয়ে যায় দমদমের বাগানবাড়িতে মাছ ধরতে। তারপরের ঘটনা তো
একেবারে চমকপ্রদ। এখানে টেনিদা কাঁকড়া ধরায় বুদ্ধি প্রয়োগ করলেও শেষ হাসি হেসেছে
প্যালা। ইচ্ছের বিরুদ্ধে টেনিদা তাকে কেঁচো গাঁথার কাজে নিযুক্ত করায় এর শোধ তুলতে
কথার প্যাঁচে টেনিদার থেকে দাঁড়া ছাড়া প্রায় গোটা কাঁকড়াই আদায় করেছে সে। টেনিদার
কাঁকড়া বেহাত হওয়ার একটু দুঃখ লাগে বটে, কিন্তু প্যালার জন্যও সহানুভূতি না এসে
পারে না।
৫) পেশোয়ার কী আমীর-
এই গল্পটা টেনিদা প্যালাকে বলেছে। অর্থাৎ এটি টেনিদার স্বকপোল কল্পিত। তাই এর
সত্যি-মিথ্যের ভাবনাটা টেনিদা আমাদের উপরই ছেড়ে দিয়েছে। প্যালা টক আমের নিন্দা
করাতে টেনিদা তাকে শোনায় পেশোয়ার কী আমীরের এই গল্প। পেশোয়ার কী আমীর হল এক ধরনের আম। মানে একধরনের ‘ভয়ঙ্কর’ টক আম। মামাবাড়ি গিয়ে গাবলু মামার শাসনে উত্যক্ত টেনিদা কীভাবে বন্ধুর কথায় দৈব বিপাকে ওই আম খেল আর তার আসল স্বাদ
পেয়ে প্রতিশোধ নিতে গাবলু মামাকে ওই আম খাওয়ানোর
ব্যবস্থা করল, সেটা গল্প নয় কিন্তু, আসল গল্প তো তখন শুরু হবে যখন মামার জন্য রাখা
সেই আম মামার চাকুরীদাতা সাহেবের কাছে ভেট যাবে। এখানেই গল্পের অপ্রত্যাশিত মোচড় বা
আন এক্সপেক্টেড ট্যুইস্ট শুরু। এই টক আমই আবার
মামার চাকুরীদাতা সাহেবের বাত সারিয়ে দেয় নিমেষে।
তাই গাবলু মামার ক্ষেত্রে শাপে বর হতে দেখে, অর্থাৎ আমের ধাক্কায় তাঁর চাকরিটা যাওয়ার
বদলে উলটে পাকা হতে দেখে পাঠক হিসেবে খুব আনন্দ হয়। টক আম যে ক্রনিক বাতের ওষুধ হতে
পারে, একথা আর কেই বা জানে? গল্পের শেষে নীতিশিক্ষাটিও দারুণ- টক
আমকে ভুলেও অশ্রদ্ধা করিও না!
৬) কাক কাহিনী-
এই কাহিনিও
টেনিদার প্যালাকে শোনানো গল্প। এই গল্পেও একটি নীতিশিক্ষা আছে- কাকের মত মহৎ হৃদয়
প্রাণীকে কখনও অশ্রদ্ধা করিও না। টেনিদার মেসো আর তাঁর খুড়তুতো ভাই যদুবাবুর আজন্ম
শত্রুতা কী ভাবে একটা কাক এসে মিত্রতায় বদলে দিল, টেনিদা সেই গল্পই শুনিয়েছে প্যালাকে।
একটি কাকের কারণে ঝগড়া এবং সেটা পুলিশ পর্যন্ত গড়ানো, শেষপর্যন্ত দারোগার
হস্তক্ষেপে সেই ঝগড়ার নিরসন হওয়াই গল্পের বিষয়। এছাড়াও উপরি পাওনা হিসেবে রয়েছে টেনিদার
মোক্ষদা মাসির বানানো ভয়ানক শক্ত তিলের নাড়ু একটা কাক নিয়ে গিয়ে কীভাবে তার মেসোর
মাথায় ফেলে দিয়েছিল আর তার ফলশ্রুতিতে মেসোর হুঁশিয়ারির কারণে ওই নাড়ু আর কখনও
বানানো হয়নি- সেই গল্প। কিন্তু কাহিনির শেষে সেই মহৎ হৃদয় প্রাণীটি যখন টেনিদার
সাধের তেলেভাজা নিয়ে ঊড়ে যায়, টেনিদাকে বোকা বনতে দেখে বেশ আনন্দই হয়।
৭) ক্রিকেট
মানে ঝিঁঝি-
হ্যাঁ,
ক্রিকেট মানে যে ঝিঁঝি, সে তো আমরা সবাই
জানি। কিন্তু এই ক্রিকেট হল ক্রিকেট খেলা। এ কথাটাও কে না জানে? কিন্তু, প্যালা
জানতো না। ও ক্রিকেট খেলার সঙ্গে ঝিঁঝিকে গুলিয়ে ফেলেছে। ক্রিকেটের বিন্দুবিসর্গ
না জানা প্যালাকে টেনিদা আবারও টেনে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে আর প্যালা আনাড়ির মতো মাঠে
কী কাণ্ড ঘটিয়ে দিয়ে এসেছে, সেটাই এই গল্পের বিষয়। তবে বলতেই হয় যে টেনিদার
অদূরদর্শিতার কারণেই প্যালা এমন কাণ্ড বাধিয়েছে। আনাড়ি প্যালাকে আবার তাদের নড়বড়ে
থাণ্ডার ক্লাবের হয়ে খেলতে নামালে প্যালা তো ভাল খেলেই নি, উলটে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বিপক্ষের ক্রিকেটারের মাথায়
বল মেরে ক্লাবের খেলার পথই বন্ধ করে দিয়েছে। সারা গল্প জুড়ে প্যালার আনাড়িসুলভ ভুলগুলো
রীতিমতো সুখপাঠ্য। আর কাহিনি পড়তে পড়তে প্যালার জবানিতে ‘লাইভ’ ক্রিকেটের স্বাদও
পাওয়া যায়।
৮) পরের উপকার করিও না-
নীতিশাস্ত্রে বলে, সবসময় পরের উপকার করবে। কিন্তু আমাদের টেনিদার
বক্তব্য, ওই কাজটি ভুলেও কখনো করতে নেই। কিন্তু পরোপকারের উপর টেনিদা এত খাপ্পা কেন?
সেই করুণ কাহিনি নিয়েই এই গল্প। কালীঘাটে এক ভীষণদর্শন সাধুকে পয়সা দেওয়ার পর সাধুর
উৎসাহবাক্যে টেনিদার মাথায় পরোপকারের ভূত চাপে। এরপর এর তাড়নায় দেশের বাড়ি হরিপালে
চলে যায় টেনিদা, সঙ্গে নিয়ে যায় পাঁচনের বোতল- ম্যালেরিয়া ক্লিষ্ট গ্রামকে সারিয়ে তোলার
জন্য। কিন্তু ভূত চাপলে যা হয়- ম্যালেরিয়া সন্দেহে সবাইকে ধরে ধরে পাঁচন খাওয়াতে থাকে
টেনিদা। শেষকালে তিনটে ছাগলকে পাঁচন খাইয়ে
একেবারে আদালতের কাঠগড়াতেই দাঁড়াতে হল তাকে। ভাবা যায়! বাকি তিনমূর্তিই সে যাত্রা
জরিমানার টাকা দিয়ে বাঁচায় তাকে। এটাই ছিল টেনিদার খাপ্পা হওয়ার কারণ। টেনিদার বুদ্ধির
বহর দেখলে হাসি আসতে বাধ্য। আর ছাগল যে রসগোল্লাও খায়, সেটা এই গল্প না পড়লে জানাই
যায় না।
৯) চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা-
হ্যাঁ, এদের দুজনের মধ্যেকার সম্পর্ক কেবল টেনিদাই বের করতে
পেরেছে। এই গল্পটিও টেনিদার নিজস্ব ঝুলি থেকে বের করা। এই গল্পটা টেনিদা তিনমূর্তিকেই
শুনিয়েছে। মোঙ্গলদের গোঁফ দাড়ি ( আদৌ কি ছিল?) কীভাবে চেঙ্গিস খাঁ আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার
দ্বন্দ্বের কারণে ধ্বংস হয়ে গেল, টেনিদা সেই গল্পই শুনিয়েছে- তাও নাকি আবার ‘স্তোরিয়া
দে মোগোরা পুঁদিচ্চেরি বোনানজা বাই সিলিনি কামুচ্চি’ নামে একটা
বিদ্ঘুটে বই থেকে। মোঙ্গলদের গর্ব- তাদের গোঁফ দাড়িতে যখন ছারপোকা ঢুকে মহা উৎপাত
আরম্ভ করল, তখন সেই বাঁশিওয়ালা বাঁশি বাজিয়ে ছারপোকা তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চেঙ্গিস
তাঁকে তাঁর প্রাপ্য না দেওয়ায় বাঁশিওয়ালা প্রতিশোধ নিতে বাঁশি বাজিয়ে তাদের গোঁফ
দাড়ি উড়িয়ে দেয়। সেই রাগে চেঙ্গিসের তাঁকে খুঁজে ফেরার গল্পই শুনিয়েছে টেনিদা।
আবার এটাকে ইতিহাস বলে সার্টিফিকেটও দিয়েছে।
১০) ঢাউস-
বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি কে না উড়িয়েছে? কিন্তু
টেনিদা ঢাউস অর্থাৎ বড় ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে যে কাণ্ড বাধিয়েছিল, এটা সেই গল্প। ঢাউস
ঘুড়ি উড়িয়ে বাহবা নিতে ইচ্ছে হয়েছিল্প টেনিদার। কিন্তু কায়দা মেরে ঘুড়ির লাটাই
হাতে রাখার ফল হাতেনাতেই পেল সে। মানে ঘুড়ির সঙ্গে হাওয়ার টানে সেও উড়ে গেল। না,
না, খুব বেশি দূর যেতে পারেনি, গঙ্গার ঘাটের একটা গাছেই আটকে গেছিল। তবে টেনিদার
অত বুকনির পরে ওকে একটু নাজেহাল হতে দেখে হাসিও পায়, অনুকম্পাও হয়। এই কাহিনিতে
চারমূর্তির চারজনই উপস্থিত। আর কাহিনির শুরুতে প্যালার জার্মান আর হাবুলের বাঙাল
ভাষা আর উপরি পাওনা হিসেবে প্যালার ফুচুদার লেখা ‘রামধনের ওই বৃদ্ধ গাধা’ কবিতা
একেবারে অপূর্ব।
১১) নিদারুণ প্রতিশোধ-
লোকে বলে, বাঁদর নাকি আমাদের পূর্বপুরুষ। তারা
মানুষের মতো অনেক কিছুই করতে জানে। কিন্তু তারা যে প্রতিশোধ নিতেও সিদ্ধহস্ত, সে
কথা কয়জন জানে? সেই গল্পই টেনিদা শুনিয়েছে প্যালাকে। টেনিদার কুট্টিমামার বন্ধু
রামগিদ্ধড়বাবু (বাপরে কী নাম!) উড়িষ্যার কেওনঝাড়ের জঙ্গলে বাঁদরের সঙ্গে চালাকি
করতে গিয়ে যা বিপদে পড়েছিলেন, এটা তারই গল্প। খাবার সময় রোজ প্রসাদ নিতে আসা একটি হনুমানকে
লঙ্কাবাটা ভরতি চাপাটি খাইয়ে জব্দ করার পর, সেই দিন বিকেলেই দেড়শোটা হনুমানের পাল্লায়
পড়লেন তিনি। অগুন্তি চাঁটি তো জুটলই, আরো যেটা ভয়ঙ্কর, সেটা হল, সেই জব্দ হওয়া
হনুমান তাঁকে ওই লঙ্কা চাপাটির বাকি অংশ খাইয়েই ছাড়ল। টেনিদা এই গল্প বলে প্যালাকে প্রকারান্তরে
সাবধান করে দিয়েছে যে, কেওনঝাড়ের বাঁদরদের
সাথে- একদম চালাকি নয়।
(চলবে…..)
পুনশ্চ-
লেখাটা পড়ে কেমন লাগল কমেন্ট করে জানাবেন কিন্তু।
Comments
Post a Comment